গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার আবেগে উদ্বেলিত জাতি

12 Feb 2026 - 04:43 AM
12 Feb 2026 - 04:52 AM
 0
গণতান্ত্রিক ধারায় ফেরার আবেগে উদ্বেলিত জাতি

আজ বহুল প্রতীক্ষিত ও প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন উপলক্ষে দেশজুড়ে মানুষের মাঝে ইতোমধ্যে প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে গত ক’দিন ধরে। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় এজন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন সম্ভব সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। আশা করা যায়, কোন ঝুট ঝামেলা ও বিশৃংখলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে এই কাংখিত জাতীয় নির্বাচন।

বলা বাহুল্য, বিগত দেড় দশক যাবৎ এদেশে গণতন্ত্র বলতে কিছুই ছিলো না, ছিলো না সুষ্ঠু নির্বাচন বলতে কোন ধারণা বা প্র্যাকটিস। স্বৈরশাসক হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ ভোটাধিকারসহ এদেশের জনগণের প্রায় সকল মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো। হরণ করেছিলো বাক স্বাধীনতা। এই অধিকার ফিরে পেতে এক প্রচন্ড রক্তক্ষয়ী লড়াই করতে হয়েছে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে। এই লড়াই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সূচিত হলেও পর্যায়ক্রমে তা স্বৈরাচার হঠানোর সংগ্রামে রূপ নেয়। চরম দমন পীড়ন খুন জখম সত্বেও দমানো যায়নি জুলাই বিপ্লবীদের, পরাভূত করা যায়নি দুর্দমনীয় সংগ্রামী জনগণকে। হাসিনার স্বৈরশাসন অবসানে এর আগে দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রাম হয়েছে। কিন্তু একশ্রেণীর নেতানেত্রীর বিশ্বাসঘাতকতা তথা স্বৈরাচারী শাসক গোষ্ঠীর সাথে আঁতাতের ফলে আন্দোলন হোঁচট খেয়েছে। যদিও সকল দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা সব সময়ই দৃঢ়চিত্ত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলো স্বৈরাচার হটানোর প্রশ্নে। তাই বলা যায়, স্বৈরাচারের পতনের পেছনে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনও বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

দীর্ঘকাল ধামাচাপা পড়া ও অবদমিত গণতান্ত্রিক চেতনা এখন মুক্ত। গত দেড় বছরে বিভিন্ন সংকট সমস্যা সত্বেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই চেতনাকে লালন করেছেন। শেষ পর্যন্ত এটাকে একটি পূর্ণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আয়োজন করেছেন জাতীয় নির্বাচনের। এজন্য ডঃ ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিছু কিছু বিতর্কিত কর্মকান্ড সত্বেও তার সরকার প্রশংসার দাবিদার। এই নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠিত করতে পারলে তার ভূমিকা হবে ঐতিহাসিক, যা লেখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে।

যা-ই হোক, গোটা জাতি এখন পূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারায় প্রত্যাবর্তনের জন্য উন্মুখ। তাদের মহামূল্যবান ভোট দিয়ে দেশ পরিচালনায় যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত। তারা একটি সুখী সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে উদ্বেলিত।

আশা করা যায়, জাতির এই আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটবে তাদের সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় এবং কোন বিজয়ই চিরবিজয় নয়। নেতানেত্রী ও কর্মীদের ভবিষ্যত কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে তার ওঠা-নামা চলতেই থাকবে। তাই যারা এবার জয়ী হতে পারবেন না, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পরবর্তী কর্মকান্ডই তাদের ফিরিয়ে আনবে বিজয়ী বেশে, এমন প্রত্যাশা অমূলক নয়। আর যারা জয়ী হবেন, তাদেরকে তাদের কর্মকাণ্ড তথা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে দক্ষতা যোগ্যতা ঈমানদারিত্বের প্রমাণ দিতে হবে। আশা করা যায়, নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীগণ ও তাদের দল এই মহতী কর্মে বিফল ও ব্যর্থ হবেন না। জয় হোক গণতন্ত্রের, বিজয়ী হোক এদেশের আঠারো কোটি মানুষের সদিচ্ছা ও শুভ কামনা।