রাসুলের আদর্শ অনুসরণেই মানবজাতির কল্যাণ: গোলাম পরওয়ার

24 Sep 2026 - 02:24 AM
 0
রাসুলের আদর্শ অনুসরণেই মানবজাতির কল্যাণ: গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত পবিত্র সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত পবিত্র সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শুধু রবিউল আউয়াল মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। সারাবছর তার আদর্শ নিয়ে আলোচনা করতে হবে। রাসুল (সা.) এর আগমনের উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে হবে। জীবনের প্রতিটি স্তরে তাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে পারলেই দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি লাভ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধানসহ রাসুল (সা.) কে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এ জীবনবিধান অনুসরণ করতে পারলে বিশ্বব্যবস্থায় কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত হবে। রাসুল (সা.) এর আদর্শে বিশ্বাসীরা ক্ষমতা বা গদির জন্য রাজনীতি করে না ইসলামী জীবনবিধান রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনীতি করে।

জামায়াতের এ নেতা আরও বলেন, রাসুল (সা.) শুধু ইবাদত-বন্দেগির শিক্ষা দেননি, মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্যও আদর্শ রেখে গেছেন। মদিনায় তিনি এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যেখানে ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

আজকের পৃথিবীতে অশান্তি, বৈষম্য ও অবিচার দূর করতে হলে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ থেকে শিক্ষা নিতে হবে যোগ করেন তিনি।

চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চট্টগ্রাম দিয়েই ইসলামের প্রবেশ ঘটেছিল। এই চট্টগ্রামেই ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। আগামী বাংলাদেশ হবে রাসুল (সা.) এর আদর্শভিত্তিক বাংলাদেশ।

মাহফিলে প্রধান ওয়ায়েজের বক্তব্য দেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও মদীনাতুল উলূম কামিল মাদরাসা, ঢাকার মুহাদ্দিস ড. মুফতি আবুল কালাম আজাদ বাশার।

চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী এমপি।

মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, রাসুল (সা.) ছিলেন নেতাদের মধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী নেতা। তার জীবনে সর্বোত্তম আদর্শ ছিল। সমাজ থেকে অনাচার, দুরাচার, স্বৈরাচার ও ওয়াদাখেলাফকারীদের মুক্ত করতে হলে রাসুল (সা.) এর আদর্শের বিকল্প নেই।

শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক মুসলমান রাসুল (সা.)-এর আদর্শকে ভালোবাসেন। বর্তমান অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে রাসুল (সা.) প্রদর্শিত যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা প্রয়োজন। ইসলামী খিলাফত ব্যবস্থা রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য কল্যাণ নিশ্চিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশেষ ওয়ায়েজ হিসেবে বক্তব্য দেন বাইতুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসা, চট্টগ্রামের সাবেক অধ্যক্ষ ড. মাওলানা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবু নোমান এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের প্রফেসর ড. বি এম মফিজুর রহমান আজহারী।

প্রফেসর ড. বি.এম. মফিজুর রহমান আজহারী বলেন, রাসুল (সা.) এর রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ন্যায়নিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি শূরা বা যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন। চুক্তির মর্যাদা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, সংঘাত ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তাঁর দৃষ্টান্ত আজও গুরুত্বপূর্ণ।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চলমান মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাসুল (সা.) এর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। তার জীবনাদর্শে ন্যায়বিচার, মানুষের সমমর্যাদা ও অধিকার, সম্পদের সুষম বণ্টন, শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সংহতির দিকনির্দেশনা রয়েছে।

মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এ কে এম ফজলুল হক।

মাহফিলে চট্টগ্রাম কালচারাল একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।